কম্পিউটার

সাইফুল ইসলাম.কুমিল্লা

শায়খ মুফতী মোহাম্মদ আবদুর রউফ সালাফী 

মাসিক মদীনা, সম্পাদক মহিউদ্দীন খান, মদীনা ভবন ৩৮/২, বাংলা বাজার, ঢাকা, বাংলাদেশ পরিচিত । হয়তোবা পত্রিকাটির নাম মদীনা দেয়ার উদ্দেশ্য হবে পত্রিকাটি মদীনাতুর রাসুল (সা:)-এর আদর্শে রচিত, প্রচারিত ও প্রতিষ্ঠিত । আর তা যদি না হয়, তাহলে মদীনা নামে প্রত্রিকাটির নামকরণ মদীনা ভক্তদিগকে প্রভাবিত ও প্রতারিত করা ছাড়া আর কিছু না ।

ভবনের নাম মদীনা রাখার উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ ছিল বাড়ীর অদিবাসীগণ হবেন মদীনার আদর্শের অনুসারী । যদি তা না হয়, তাহলে স্পষ্ট বুঝতে হবে মদীনার নাম ব্যবহার করে মদীনার ভক্তবৃন্দকে প্রতারিত করে দুনিয়ার অর্থ-স্বার্থ হাসিল করা । ১৯৯৯ আগষ্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের মদীনা পত্রিকার বয়স হল ৩৫ বৎসর । কিন্তু সেই ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠার পর হতে পত্রিকাটির কোন সংখ্যায় দু’রাকাত ফরজ নামাজের পূর্ণ বিবরণ কেউ পায়নি । মদীনার একটি রোযার বিবরণ পায়নি । আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে মদীনার ইমাম, মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওস্তাদগণ, এবং মদীনার মুহাদ্দিসগণের আকীদাহ ও বিশ্বাস সম্পর্কে কোন প্রবন্ধ চাপা হয়নি । অথচ মদীনার ইকামত, নামাজ প্রভৃতির বিরুদ্ধাচরণ বাংলাবাজারের মদীনা ভবনে ৩৫ বৎসর ধরে চলছে, হয়তোবা ভবিষ্যতেও চলবে । তবুও ভবনের নাম, প্রত্রিকার নাম মদীনাই থাকবে । এ যেন কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন ! বাংলাদেশের ঢাকার বাংলা বাজারের মদীনা রাসূল (সা:)-এর সৌদি মদীনার আক্বীদাহ ও বিশ্বাসের উপর হামলা শুরু করেছে । মুসলমানদের আক্বীদাহ ও বিশ্বাসকে যে সকল অমুসলিম ব্যক্তি বা সংগঠন ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে তারা সবাই ইসলামের নাম ব্যবহার করে ইসলামের সর্বনাশ করেছে । যেমন ইমদাদুল্লাহ মাক্কী (তাশাওরে শায়েখ), হুসাইন আহমদ মাদানী (হিন্দু-মুসলিম একজাতি) প্রভৃতি । বর্তমানের বাংলা বাজারের মদীনা মুসলমানদের আক্বীদা বিশ্বাস ধ্বংসকারী কোন গোপন মু’তাযেলা সংস্থার বদ-আক্বীদা প্রচার করছে সৌদি আরবের মদীনার নামে । তা যদি না হত তাহলে রাসূলের (সা:) মদীনার সাথে বাংলা বাজারের মদীনার সংঘাত কেন ? বাংলা বাজারের মদীনার ৩৫ বর্ষ ৫ম সংখ্যা আগষ্ট ১৯৯৯ সংখ্যার ৫১ নং পৃষ্ঠা ৪৪নং প্রশ্নোত্তর লক্ষণীয় । প্রশ্নটি মুহাম্মদ মতিউর রহমান সৌদি আরব থেকে পাঠিয়েছেন ।

প্রশ্ন: “আমরা এতদিন বিশ্বাস করে আসছি যে, আল্লাহ তা’আলা নিরাকার এবং তিনি সর্বত্র বিরাজমান । আমাদের এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে এখানকার ইসলমী সেন্টারের একজন মাওলানা (বাংলাদেশী) তার সাপ্তাহিক হালকায়ে ওয়াজে বলেছেন যে, আল্লাহ ত’আলা নিরাকার নন এবং তিনি সর্বত্র বিরাজমান নন । অর্থাৎ আল্লাহর হাত-পা, চোখ ইত্যাদি সবই আছে । মাওলানা সাহেব এও বলেন যে, যার মধ্যে এই বিশ্বাস নাই তিনি মুসলমান বা ইমানদার নন । এই নিয়ে এখানকার বাংগালীদের মধ্যে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে । আশা করি কুরআন ও হাদীসের আলোকে আপনার অভিমত জানিয়ে সুখী করবেন”। বাংলা বাজারের মদীনা উক্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এই-

উত্তর: “ যে ব্যক্তি এ ধরনের কথা বলেছেন, সে হয় অকাট মূর্খ না হয় বিকৃত মস্তিষ্ক । কোন গোমরাহ ফেরকার গোপন এজেন্ট হওয়াও বিচিত্র নয় । আল্লাহ তা’আলা নিরাকার । তিনি সর্বত্র সবকিছুতে বিরাজমান । তার ক্ষমতা সর্বব্যাপী । পবিত্র কুরআনের আয়াতে এবং হাদীস শরীফেও আল্লাহ ত’আলার পরিচয় এভাবেই দেয়া হয়েছে । সুতরাং এ ব্যক্তির প্রলাপে কান দিবেন না ।’’ মহিউদ্দীন সাহেব উত্তরে যে কতাগুলি বলেছেন, তা হল এই যে, যারা বলবেন আল্লাহ সাকার, তাঁর হাত আছে , পা আছে, চোখ আছে, তিনি সর্বত্র বিরাজমান নন তিনি-

১.আকাট মূর্খ,
২. না হয় বিকৃত মস্তিষ্ক,
৩. না হয় কোন গোমরাহ ফেরকার গোপন এজেন্ট ।

উল্টো আমরা দেখছি, মহিউদ্দীন সাহেব নিজেই আকাট মূর্খ ও বিকৃত মস্তিষ্ক । কারণ বিকৃত মস্তিষ্ক লোক ছাড়া সুস্থ ও সঠিক জ্ঞানের অধিকারী কোন মানুষ একজন আলেমকে অকাট মূর্খ ও বিকৃত মস্তিস্ক বলতে পারে না । কারণ পাগল চাড়া ভাল মানুষকে কেউ পাগল বলে না । আর তার মূর্খতার পরিচয় হলো রাসুল (সা:) বলেছেন, আল্লাহর আকার আছে, মেশকাত হা: ৩৫২৫, ২য় পৃ: ১০৪৬, বইরুত; আলমাকতাবুল ইসলামী, আরবী । হাদীসটি মুত্তাফাক্ব আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম) । আমাদের দেশে হাদীসের শিক্ষাগুরু হয় এই মেশকাত হতে । মহিউদ্দীন খান সাহেব এতোই মূর্খ যে, আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করার এই অপরিহার্য হাদসীটির জ্ঞানও তার নেই । আল্লাহ তাঁর হাতের কথা বলেছেন সূরা আল-ইমরান ৭৩, মায়েদা ৬৪, ফাতাহ ১০, যুমার ৬৭, আল হাদীদ ২৯, আল-ইমরান ২৬, আল-মুমেনুন ৮৮, ইয়াসিন ৮৩, মুলুক ১ আয়াতে অথচ তিনি তা জানেন না । সূরায়ে কালামের ৪২নং আয়াতে আল্লাহ তাঁর পায়ের কথা বলেছেন তাও তিনি জানেন না ! আল্লাহ তাঁর চোখের কথা সূরা হুদ ৩৮, মুমিনুন ২৭, তুর ৪৮, কামারের ১৪ নং আয়াতে বর্ণনা করেছেন, অথচ মু্হিউদীন খান সাহেব তা জানেন না ! সত্যই কি জানেন না ?

পাঠক ! মুহিউদীন খান সাহেব পবিত্র আল কুরআনের অনুবাদ করেছেন, সংক্ষিপ্ত তাফসীর ও সম্পাদনাও করেছেন । সূরা আল ইমরান ১৭০ পৃ:, আয়াত ২৬; পৃ: ১৮২, আয়াত ৭৩; ময়েদাহ পৃ:৩৪৩, আয়াত ৬৪; ফাতাহ পৃ: ১২৬৭, আয়াত ১০; হাদীদ পৃ: ১৩৩৯, আয়াত ২৯; মুমিনুন পৃ: ৯২০, আয়াত ৮৮; ইয়াসিন পৃ: ১১৩৮, আয়াত ৮৩; মুলুক পৃ: ১৩৯০, আয়াত ১; সূরায়ে কালাম পৃ: ১৩৯৮; মুমেনুন পৃ: ৯১৫, আয়াত ২৭; তুর পৃ: ১৩০১, আয়াত ৪৮; কামার পৃ: ১৩১৩, আয়াত ১৪, যুমার পৃ: ১১৭২, আয়াত ৬৭; পাঠ করে দেখুন । এই আয়াত সমূহে আল্লাহর হাত, পা, চোখের উল্লখ্য স্বয়ং মুহিউদীন সাহেবের অনুবাদেই পাবেন । সুতরাং মুহিউদীন সাহেব জানেন যে আল্লাহর হাত, পা, চোখ সব আছে । তিনি আনুবাদও করেছেন, কিন্তু মূলত কুরআনের ঐ আয়াতগুলিকে বিশ্বাস করতে পারেন নি । যারা কুরআন বিশ্বাস করেন তারা ঈমানদার, আর যারা বিশ্বাস করেন না তারা অবিশ্বাসী । কুরআনের অনুবাদ করলেই কেউ ঈমানদার হতে পারে না, কারণ অনেক অমুসলিম কুরআনের অনুবাদ, ব্যাখ্যা ও গবেষনা করেও অমুসলিমই থেকেছেন । ইমাম আবু হানিফা [রা:] বলেছেন যে, আল্লাহর হাত আছে, আকার আছে, জীবন আছে যেমন আল্লাহ কুরআনে উল্লেখ্য করেছেন । কুরআনে আল্লাহর যে চেহারা , হাত, প্রভৃতি উল্লেখ্য করা হয়েছে সেগুলো আল্লাহর দেহের বৈশিষ্ট বা গুণাবলী । তবে তার পূর্ণ বিবরণ আমাদের জানা নেই । তোমরা কখনো কেউ বলবেনা যে, আল্লাহর হাত প্রকৃত হাত নয় বরং আল্লাহর হাতের অর্থ (কুদরত) ক্ষমতা ইত্যাদি । কারণ এ ধরণের কথা হল মুতাযেল্লাদের আকীদাহ । জেনে রাখ দেহের যেমন বৈশিষ্ট্য হল হাত, তেমন আল্লাহর হাতও তার দেহের বৈশিষ্ট্য । তবে ঐ হাতের পূর্ণ বিবরণ জানি না । ফিকহুল আকবর ৫৮ ও ৫৯ পৃ: । দারুল কুতুবুল উলমিয়াহ, বইরুত ।

মহিউদীন খান সাহেব ৩৫ বৎসর ধরে মদীনার নামে পত্রিকা চালাচ্ছেন । মদীনা নাম ব্যবহার করার মতলব এবার স্পষ্ট হচ্ছে । মদীনার সম্মান যাদের অন্তরে বদ্ধমূল তাদের অন্তরকে কাফের ও অবিশ্বাসী করে গড়ে তোলার ঘৃনিত উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টায় মদীনা নামটি তিনি ব্যবহার করছেন । মহিউদীন খান সাহেব সৌদি আরবে আবস্হানকারী মাওলানা সাহেবকে বলেছেন । বিকৃত মস্তিষ্ক; বাস্তবে দেখা যাচ্ছে মহিউদীন খান সাহেব নিজেই মস্তিস্ক বিকৃতির খপ্পরে পড়েছেন । সৌদি আরবে অবস্হানকারী মাওলানা সাহেবই ঈমানদার বরং মহিউদীন সাহেবই কুরআনের আয়াতে ঈমানদার নন । তাছাড়া এ কথাও স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি মুতাযেল্লা সম্প্রদায়ের গোপন এজেন্ট । তা যদি না হবে তাহলে তিনি মুতাযিলাদের বিশ্বাস ও আকীদাহর ভিত্তিতে জবাব দিবেন কেন ?
মহিউদীন খান সাহেব বলেছেন, ‘’কুরআনের আয়াতে ও বহু হাদীসে আল্লাহ নিরাকার ও তিনি সর্বত্র ও সবকিছুতে বিরাজমান রয়েছেন ।‘’ কিন্তু তিনি একটি আয়াত ও একটি হাদীসের উদৃতিও তিনি দিতে পারেন নি । মূলত তার কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা । আল্লাহ নিরাকার এমন কোন আয়াত নেই, এমন কোন সহী হাদীসও নেই । আমরা জানি মহিউদীস খান সাহেব একজন মুকাল্লিদ ( আন্ধ অনুসারী) । আর কোন মুকাল্লিদ কখনোই বড় আলেম হতে পারেন না, হওয়ার প্রয়োজনও নেই । অন্ধের মত অনুসরণই তার কাজ । মুকাল্লিদ দেখবে বাপ দাদারা কি করেছে ? উস্তাদ কি বলেছে ? তাই সে অনুসরণ করবে । দলিল দেখার তার কোন দরকার নেই । আরব বিশ্বের বাইরে, বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্হান, আফগানিস্হান তুরুস্ক প্রভৃতি দেশের অধিকাংশ আলেমগন মুকাল্লিদ [আন্ধ অনুসারী] । তাই তাদের কুরআন ও হাদীসের জ্ঞান খুবই সামান্য । কিন্তু অহংকার হিমালয় পাহাড়ের ছেয়েও উঁচু । তাছাড়া আমাদের দেশের এই ধরনের আলেমরা সাধারণ মানুষদেরকে তো মানুষই মনে করেন না । তারাইতো মাদ্রাসায় পড়েন, পড়ান একখানা বই, যার নাম নূরুল আনোয়ার, এই বইটি তারা আম জনসাধারণকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন যে, ওরাতো চতুষ্পদ জন্তুর মতো [আরাফাত পাবলিকেশন্স- এর নূরুল আনোয়ার বাবুল ইজমা, পৃষ্ঠা নং ১৬৭] । মাওলানা মহিউদীন খান সাহেবও নূরুল আনোয়ারের অনুসারীদের মতো তার পত্রিকায় প্রশ্নকারী সরল প্রাণ মানুষদেরকে বেআক্কেল মনে করে উল্টা-পাল্টা দলিলবিহীন উত্তর দিয়ে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করেছেন । আর আল্লাহর প্রদত্ত ইলম গোপনকারীদের এটাই স্বভাব ।

আমরা অনুরোধ জানাব ইমাম বায়হাকী [রা:] এর সংকলিত কিতাবুল আসমাই আসসিফাত পাঠ করুন ! আল্লাহ সম্পর্কে এই হাদীসের সংকলন সকল ভ্রান্ত বিশ্বাস দূর করতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ ।

ইসলাম শিক্ষা
নবম-দশম শ্রেণী
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ড, ঢাকা ।

প্রথম অধ্যায়- আকাইদ

প্রথম পরিচ্ছেদ (ক) তাওহীদ: পৃষ্ঠা ২

আল্লাহ-তিনি অদৃশ্য ও নিরাকার অথচ সর্বত্র বিরাজমান ।
উল্লেখিত বইটি ছাত্রদের কচি মনে আল্লাহ সম্পর্কে যে বিশ্বাস বদ্ধমূল করতে চেয়েছে তা হল আল্লাহ নিরাকার এবং তিনি সর্বত্র বিরাজমান । বইটির এই বক্তব্য যে ‘ইসলাম’ তা, প্রমাণ হয় বইটির নামে, আল্লাহ নিরাকার ও সর্বত্র বিরাজমান কথাটি ইসলামের শিক্ষা হিসাবে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে । কিন্তু ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা হল আল্লাহ সাকার ও আরশে সমাসীন, তিনি নিরাকার নন এবং সর্বত্র বিরাজমানও নন ।

আল্লাহ নিরাকার ও সর্বত্র বিরাজমান কথাটি হিন্দু ধর্ম হতে এনে ইসলাম শিক্ষার মধ্যে ঢুকানো হয়েছে ।

নিম্নে তার প্রমাণ দেয়া হল:
মাধ্যমিক হিন্দু ধর্ম শিক্ষা
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও টেকস্টবুক, ঢাকা ।
চতুর্থ পাঠ ঈশ্বরবাদ ২৩, ২৪, ২৫ পৃষ্ঠা ।
ব্রহ্ম ঈশ্বর । তিনি এক অদ্বিতীয় । তিনি নিরাকার ও সর্বব্যাপী । বইটিতে হিন্দু ছাত্রদিগকে হিন্দু ধর্ম থেকে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে, সেটা তাদের ব্যাপার । কিন্তু আমরা দেখছি ইসলাম শিক্ষা বইটিতে কোমলমতি মুসলিম ছাত্রদেরকে হিন্দু ধর্ম শিক্ষা দেয়া হচ্ছে ইসলাম শিক্ষার নামে ।

ব্রহ্ম ঈশ্বর । তিনি এক অদ্ধিতীয় । তিনি নিরাকার, সর্বব্যাপী ।

এই বইটি হিন্দু ছাত্রদিগকে হিন্দু ধর্ম শিক্ষা দিয়েছে । অবশ্য হিন্দু ধর্ম শিক্ষার লেখকগণ; ঐ কথাগুলির বরাত বেদ হতে দিয়েছে । কিন্তু ইসলাম শিক্ষার লেখকগণ আল্লাহ নিরাকার ও সর্বত্র বিরাজমান এই কথাটি কোথায় পেলেন তার কোন বরাত দেননি । এতে প্রমান হয় ইসলাম শিক্ষার লেখকগণ হিন্দু ধর্মের শিক্ষাকে ইসলামের শিক্ষা বলে চালিয়ে দেবার অপচেষ্ট করেছেন । এই অপচেষ্টার কারণ কি ? অন্যদিকে তথাকথিত একদল মুসলমান বলে থাকেন আল্লাহ নিরাকার ও সর্বত্র বিরাজমান, এ কথাটি একটি খাঁটি মিথ্যা কথা । এ কথার কোন দলিল কুরআন এ হাদীসে নেই । মানুষের আমল বিশুদ্ধ হবার পূর্বশর্ত হল বিশুদ্ধ ঈমান । সূরায়ে নাহল ৯৭, বনি ইসলাইল১৯ । ঈমান বিশুদ্ধ না হলে আমল যতই বিশুদ্ধ হোক তা কবুল হবে না । যেমন- নামাজ বিশুদ্ধ হবার পূর্বশর্ত হল অজু । অজু শুদ্ধ না হলে নামাজ হবে না । ঈমানের মধ্যে সর্বপ্রথম হলো আল্লাহর উপর ঈমান । সেই আল্লাহর উপর ঈমাণ যদি বিশুদ্ধ না হয়, তাহলে অন্যান্য আমল যত বিশুদ্ধ হোক, যেমন নামাজ, রোজা,হজ্জ, যাকাত কোনটাই কবুল হবে না । আল্লাহ নিরাকার ও সর্বত্র বিরাজান কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা । এই বিশ্বাস ঈমানকে কলূষিত করবে, সারাজীবনের আমলকে বরবাদ করবে । তাই আমরা আল্লাহর আকার ও আল্লাহর সম্পর্কে কুরআন ও সহীহ হাদীসের বরতে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম । পাঠক কোন বিষয়ে দ্বিমত পোষন করলে আমাদিগকে জানালে উপকৃত হব ।

কিছু লোক আছেন যারা আল্লাহর আকার অবিশ্বাস করেন । আল্লাহর আকার আবিশ্বাস করার অর্থ আল্লাহকে অবিশ্বাস করা । সাথে সাথে মনে রাখতে হবে সৃষ্টি জগতে যতকিছু আছে তার কোনটির আকারের সাথে আল্লাহর আকারের সাদৃশ্য নেই । যেমন- আল্লাহ বলেছেন :

قَالَ يَا إِبْلِيسُ مَا مَنَعَكَ أَن تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ أَسْتَكْبَرْتَ أَمْ كُنتَ مِنَ الْعَالِينَ

আল্লাহ বললেন, হে ইবলিস, আমি স্বহস্তে যাকে সৃষ্টি করেছি, তার সম্মুখে সেজদা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল ? তুমি আহংকার করলে, না তুমি তার চেয়ে উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন ? [সুরা ছোয়াদ] ।

এখানে আল্লাহ তাঁর হাতের কথা বললেন । মানুষেরও হাত আছে, তাই বলে আল্লাহর হাত মানুষের হাতের মত, এই বিশ্বাস করা যাবে না । এই বিশ্বাস যদি কেউ করে তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে । বিশ্বাস করতে হবে আল্লাহর হাত আছে, সেই হাতের তুলনা সৃষ্টি জগতে নেই । যেমন আল্লাহ তেমনই হবে আল্লাহর হাত । তার হাতের সম্পূর্ণ বিবরণ আমাদের জানা নেই । শুধু বিশ্বাস করব যে, আল্লাহর হাত আছে । যদি বিশ্বাস করি আল্লাহর হাত নাই তাহলে কুরআনের ঐ আয়াত অবিশ্বাস করা হয় । আর কুরআনের আয়াত অবিশ্বাস করলে মানুষ কাফের হয়ে যায় ।

কিছু লোক বলে থাকেন আল্লাহ যে হাতের কথা বলেছেন, তা বাস্তব হাত নয়, তা হল কুদরতের হাত । এ কথাটিও মিথ্যা । তাতেও আল্লাহর কুরআন অবিশ্বাস করা হয় । কারণ কুদরতী হাত বললে বাস্তব হাতকে আবিশ্বাস করা হয়, আস্বীকার করা হয়, সুস্থ হাতেই ক্ষমতা বা শক্তি থাকে । যদি বাস্তব হাত বিশ্বাস করা হয় তাহলে হাতের সাথে ক্ষমতা [কুদরত] ও বিশ্বাস করা হয় । কিন্তু যদি কেবল কুদরত [ক্ষমতা ] বিশ্বাস করা হয় তাহলে হাতকে বিশ্বাস করা হয় না । তাই যারা আল্লাহর হাতের অর্থ কুদরাত করেন, তারা বাস্তব হাতকে বিশ্বাস করেন না । আর এটাই হল কুফরী । বিশুদ্ধ বিশ্বাস হল আল্লাহর বাস্তব হাত আছে এবং সে হাতর অসীম ক্ষমতা আছে ।

কুরআনের আয়াতের এরূপ খমখেয়ালী অর্থ সর্ব প্রথম চালু করে জাহাম বিন সাফওয়ান নামক এক ব্যক্তি । সে খোরাসনের তিরমিয অন্চলের অধিবাসী ছিল । এরূপ খামখেয়লী অর্থ করার জন্য ১২০ হিজরীতে আদালত কর্তৃক মৃত্যুদন্ডপ্রপ্ত হয়ে মৃত্যু বরন করেন । তারীখ-তাবারী ৭ম খন্ড, ৩৩০ পৃষ্ঠা ।

বর্তমানে বই পুস্তকে, কুরআনের ভিবিন্ন তাফসীরের এরূপ বহু অর্থ পাওয়া যাচ্ছে । তা সবই বিভ্রান্তিকর ।

আমরা আল্লাহর কিতাব ও রাসুল [সা:] বিশুদ্ধ হাদীস মুতাবেক আল্লাহর আকার সম্পর্কে তুলে ধরার চেষ্টা করছি । আমাদের এই পুস্তকটি পড়ার পর ক্ষেপে যাবেন কেবল তারা, যারা হিন্দুদের ধারণা বিশ্বাস স্থাপন করে আছেন । যারা কুরআন ও হাদীসের মধ্যে নিজেদের বক্তব্য ঢুকিয়ে কুরআন ও হাদীসের বিকৃতি ঘটাতে চান, অথবা আল্লাহর আকার সম্পর্কে অজ্ঞ ও মুর্খ থাকতে চান । অন্যদিকে যারা সস্তা ওয়াজ ও নসীহাত করে মানুষকে হাসিয়ে, কাদিঁয়ে, মিথ্যা কাহিনীর মধ্যমে ওয়াজের ময়দানকে সরগরম করে ফেলে, সেই সকল মিথ্যুক প্রতারক ওয়ায়েজগণ । তবে কুরআন হাদীসের অভিজ্ঞ কোন আলেম যদি আমাদের বর্ণনার ব্যাপারে কোন ভুল ধরতে পেরে থাকেন, তাহলে দলিল প্রমাণ সহ লিখিতভাবে প্রেরণ করলে পরবর্তী সংস্করণে সংশোধনী সংযুক্ত করব ইনশাআল্লাহ । অনুরোধ রইল কেবল মাত্র ভাবাবেগের বশে, বিনা দলিলে, আপন খেয়ালে, কোন বুজুর্গের কথা কষ্ট করে পাঠাবেন না, যারা কুরআনের অর্থ অবগত নয় । কমপক্ষে মেশকাত শরীফও আগাগোড়া পড়েনি । এমনকি ইসলামী আকাইদ সর্ম্পকে একখানা কিতাবও পড়েনি এমন বহু মাদ্রাসার শিক্ষক পীর ও তাবলীগের মুবাল্লিগের সাথে সাক্ষাত করেছি, সাধারণের নিকট বুজুর্গ বলে খ্যাত, কিন্তু ইসলামী জ্ঞানে তারা শূণ্য । এ ধরণের কাট হুজুরদের দলিল বিহীন কোন কথা কষ্ট করে পাঠাবেন না । অতীতের তথাকথিত কোন বুজুর্গের কথাও আমাদের নিকট পাঠাবেন না । কোন আয়াতের অর্থ যদি দ্বিমত পোষন করেন তাহলে প্রথমে আরবী ব্যাকরণ [সারফ, নাহু, বালাগাতের] দৃষ্টে এবং বিশুদ্ধ হাদীসের বরাতে তুলে ধরে পাঠাতে অনুরোধ করছি । হাদীস যেন যয়ীফ না হয়, মউযু না হয় । কোন ব্যাখ্যার বরাত যদি পাঠান তা যেন কোন মুকাল্লিদ ও সুফীর কিতান না হয় । এটাই হল আনুরোধ । যারা আরবী বুঝেন তাদের নিকট অনুরোধ তার যেন ইমাম বায়হাকী [রা:] এর কিতাবখানি পড়েন ও তা প্রচার করেন এবং আমাদের বর্ণনা তাঁর কিতাবের সাথে মিলিয়ে দেখেন ।

Advertisements
 
%d bloggers like this: